নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার মিয়াখান নগর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ ও এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়া পথচারী শিশু ফাহিম (১৩) এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার চার দিন পর কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার পাহাড়ি এলাকা থেকে পলাতক অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ‘শ্যুটার ফারুক’কে গ্রেপ্তার করেছে সিএমপি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় নগরের কোতোয়ালীর দামপাড়া সিএমপির পুলিশ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ। এই সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া, এসি (চকবাজার) মো.তারিকুল ইসলাম ও বাকলিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ সোলাইমান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার রাত ৯টার দিকে ময়দার মিল স্কুল মাঠের সামনে এলাকায় মোরশেদ খান ও শওকত গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পূর্বশত্রুতা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে দুই পক্ষই পিস্তল, শর্টগান, কিরিচ ও দেশীয় তৈরি বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয়। এক পর্যায়ে শুরু হয় এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ। সেই সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল শিশু ফাহিম। হঠাৎ ছোড়া গুলিতে তার দুই পায়ের উরুতে গুলি লাগে। এ ঘটনায় আরও চারজন গুরুতর আহত হন এবং সবাইকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখনো তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন গুলিবিদ্ধ শিশুর বাবা সোলাইমান বাদশা বাদী হয়ে মোরশেদ খান, শওকত, ফারুক, হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপর পলাতক শ্যুটার ফারুকের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি দেশীয় লোহার তৈরি শর্টগান উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে একটি মামলাও দায়ের হয়। পরবর্তী অভিযানে শওকতকে ৬ এপ্রিল এবং হোসেনকে ৭ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়।
অবশেষে ৮ এপ্রিল রাতে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারি কাজে লাগিয়ে চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের পূর্ব বিন্দারখীল এলাকার একটি পাহাড়ি গহিন থেকে শ্যুটার ফারুককে গ্রেপ্তার করে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
অভিযানটি পরিচালিত হয় সিএমপি পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী নির্দেশে এবং অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ ও দক্ষিণ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া তত্ত্বাবধানে। অভিযান নেতৃত্ব দেন চকবাজার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. তারিকুল ইসলাম ও বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ফারুককে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। গুলিবিদ্ধ শিশু ফাহিমসহ আহত চারজন এখনো চিকিৎসাধীন।